রৌমারীতে ঘনো কুয়াশায় শ্রমজীবি ও ছিন্নমুল মানুষের দূর্ভোগ

7

শফিকুল ইসলাম, ব্যুরো প্রধান, রৌমারী অফিস
ঘন কুয়াশা আর ভারতীয় পাহাড়ী হিমেল হাওয়ায় রৌমারী জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডায় চরম বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষসহ পশুপাখি। টানা শৈত্যপ্রবাহে শীতে মুড়ানো রৌমারী উপজেলার পথ ঘাট। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হতে পারছে না । সবচয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো । দুবেলা কাজ না করলে দুমুঠো অন্ন জোটে না এমন মানুষরা শীতের প্রকোপে কুঁকড়ে গেছেন। প্রচন্ড ঠান্ডায় ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশুরোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদিকে দুই দিন থেকে ঘন কুয়াশা রেশ থাকছে দুপুর পর্যন্ত।

গতকাল হতে আজ পর্যন্ত রৌমারী সরকারি হাসপাতালে শীতজনিত কারনে নটান পাড়া গ্রামের নয়ন ইসলাম এর ছেলে মিম (৪), দাঁতভাঙ্গা আমবাড়ী গ্রামের বাহাজ উদ্দিন এর ছেলে আয়াত হোসেন (১৮ মাস) ছোট্টধনতোলা গ্রামের লাল বাদশাহর মেয়ে নিপা (১৮মাস )সহ মোট ১৭ জন শিশু ডায়রিয়া জনিত রোগে অসুস্থ হয়ে ভর্তিরত অবস্থায় আছে। মঙ্গলবার সূর্য্যরে দেখা মিললে¬ও বুধবার (২২জানুয়ারি ) পুরো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। সেই সঙ্গে কনকনে বাতাস। ছিন্নমূল মানুষরা সকাল-সন্ধ্যা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন। রৌমারী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। কিন্তু ভিড় বেড়েছে উপজেলার বিভিন্ন হকার্স দোকান গুলোতে । স্বল্প দামে শীতের কাপড় মেলায় নিম্ন আয়ের মানুষরা এসব দোকানেই ভিড় করছেন।

রৌমারী হেলিপেট এলাকার বৃদ্ধা হালিমা বেগম বলেন, ‘শীতের কারণে টিনের ঝুপড়ির ঘরে থাকতে পারছি না। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে আগুন জালিয়ে শীত নিবারণ করছি।

রাজিবপুর উপজেলা থেকে রৌমারীতে আসা পথচারী আরিফুল ইসলাম বলেন, শীতে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও মোটরসাইকেল চালিয়ে আসতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে কাজের স্থানে চলে আসা। শীতে রাস্তা দেখা যায় না মোটরসাইকেলের হেডলাইট জ্বালিয়ে আসতে হলো। সকাল থেকেই মাঠ, রাস্তাঘাট কিছুই দেখা যায় না।

কুড়িগ্রাম জেলা শহরসহ পার্শ্ববর্তী রৌমারী উপজেলার গতকালে তাপমাত্রা ৮. দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস আজ বুধবার ৭. দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা গতকালের চেয়ে নিম্নগামী । সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শীতের তীব্রতা বাড়ছে।

এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ হাজার ৮০ পিস কম্বল বিতরণ করেছি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও কম্বল পাঠানো হয়েছে।

Comments are closed.