কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে নালিশ দেয়া দেশ ও জাতিকে অপমান করা হয়- তথ্যমন্ত্রী

10

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, যদি কোন নালিশ থাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে নালিশ দিন। কথায় কথায় বিদেশিদের কাছে ধর্না দেয়া, এটি দেশ ও জাতিকে অপমান করা হয়। বিএনপি ক্রমাগতভাবে যে কোন বিষয়ে বিদেশিদের কাছে ছুটে যায়, এটি দেশ, জাতি এবং ঢাকা শহরের ভোটারদেরকে অপমান করার শামিল ছাড়া অন্য কিছু নয়।

তিনি বলেন, দেশ বহুদুর এগিয়ে যেতে পারতো গত ১১ বছরে, যদি বাংলাদেশে নেতিবাচক রাজনীতি না থাকতো। গতকাল দেখতে পেলাম বিএনপির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিককে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নালিশ উপস্থাপন করা হয়েছে। ভোট দিল বাংলাদেশের মানুষ, ভোট হল ঢাকা শহরে, যদি কোনো নালিশ থাকে তাহলে ঢাকা শহরের ভোটারদের কাছে নালিশটা দিতে হয়।
সোমবার (১০ ফেব্রæয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কোন নালিশ থাকলে সেটা নির্বাচন কমিশনে দিতে পারে, সেই নালিশ দেওয়ার জন্য তারা আদালতে যেতে পারে, নালিশ দেওয়ার জন্য তারা জনগণের কাছে যেতে পারে, ভোটারদের কাছে যেতে পারে। সেটি না করে বিদেশি দূতাবাসের কুটনীতিকদের ডেকে নালিশ উপস্থাপন করা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি দূতাবাসগুলো বা রাষ্ট্রগুলো যাতে হন্তক্ষেপ করতে পারে, সেটির পথ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এটি কখনো আমাদের জন্য সম্মানজনক নয়। এটি আমাদের জন্য অসম্মানজনক। এই কাজটি ক্রমাগতভাবে বিএনপি করছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে আমি অনুরোধ জানাবো, আপনাদের যদি কোন নালিশ থাকে, সেটা জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন। দয়া করে ঘরের বিষয় নিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ উপস্থাপন করে দেশকে খাটো করবেন না।
ধারাবাহিকভাবে বইমেলা আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি, গত বছরের তুলনায় এ বছর বইমেলার কলেবর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা থেকে দেড় শতাধিক প্রকাশক এই বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী, প্রধান সমুদ্র বন্দর, প্রধান বাণিজ্য নগরী, বাণিজ্যিক রাজধানী। এই শহরের লোকসংখ্যা বর্তমানে ৭০ লক্ষের বেশী। এই শহরে এমন একটি বইমেলার বড় অভাব ছিল কয়েক বছর আগেও। বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় বইমেলার আয়োজন করা হতো, যেটির অভাব ঘুচিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃক আয়োজিত এই বইমেলা। আমি বিশ্বাস করি চট্টগ্রামের বই মেলা ধীরে ধীরে ঢাকা বইমেলার পর্যায়ে যাবে।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের বইমেলায় নিয়ে এসে বই পাঠে উৎসাহিত করা ও পুরস্কার দিতে উদ্যোগ নিতে সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।

এর আগে সোমবার বিকেল ৫টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) আয়োজিত সম্মিলিত এ বইমেলার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। বইমেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চসিকের পতাকা উত্তোলন করেন।
এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহ আলম নিপু, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.