আ’লীগের জেলা-উপজেলা সম্মেলন নিয়ে সংশয়

13

ডেস্ক নিউজ:
চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। সে অনুযায়ী অক্টোবরেই ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর জাতীয় সম্মেলনের আগেই উপজেলা ও জেলা শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করা নির্দেশনা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে দেশের চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠান বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। একই সমস্যার কারণে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মেলন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে তাতে জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সম্মেলন সম্পন্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের পক্ষে তৃণমূলে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এর আগে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছরের মার্চে আট বিভাগে আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে এই টিম বিভিন্ন বিভাগে সাংগঠনিক সফর করে। সাংগঠনিক সফর থেকে বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন অনুষ্ঠানের নির্দেশনাও দেয়া হয়। কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়, যা পূর্ণাঙ্গরূপে শুরু হয়নি। এখনো পর্যন্ত হাতে গোনা দু-একটি উপজেলা ও ইউনিয়ন ছাড়া কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগেই জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নেতৃত্বে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সস্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও ডেঙ্গুর প্রদুর্ভাবের কারণে সিদ্ধান্ত বদল করেছে দলটি। ফলে জেলা-উপজেলার সম্মেলন প্রস্তুতির কার্যক্রম স্থগিত রেখে বন্যা ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় কাজ করতে হচ্ছে নেতাকর্মীদের। ফলে জেলা-উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি বাধা হয়ে দাড়ায়।

জানা গেছে, টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসার ফলে আওয়ামী লীগের ভেতরে বহু অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এতে দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। একইসাথে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি অনুধানব করতে পেরে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। একইসাথে সুবিধাবাদী সম্পর্কে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

দলের তৃণমূলের সম্মেলনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নেত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের ডেঙ্গু মোকাবেলায় কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সবাই সেই নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া বন্যা শেষ হলেও আমাদের নেতাকর্মীরা কবলিত এলাকাগুলোয় বন্যা পরবর্তী পূনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত। এসব সমস্যা সমাধান হলে তৃণমূলের সম্মেলন নিয়ে নেত্রীর সাথে আলোচনা করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ৭৮টি। বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। এর মধ্যে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মধ্যেই বেশির ভাগ জেলার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সম্মেলনের পরপরই এসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। বেশির ভাগ জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হতে সময় লেগেছিল এক-দেড় বছর। আর উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গুলোর অবস্থা আরো করুন। এর মধ্যে এমন কিছু ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর কমিটি কবে হয়েছে সেটা ভূলতে বসেছেন সেই ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

Comments are closed.