করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

3

ডেস্ক নিউজ:
করোনাভাইরাস ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ভাইরাস যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দূতাবাসকে চীনের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক শেষে করোনাভাইরাস নিয়ে বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ক্যাবিনেট বৈঠকের পর ২০-২৫ জন বসে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত বলা হয়েছে যেভাবেই হোক ‘করোনা’ আমাদের দেশে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত উহান থেকে বাইরের দেশে যাওয়ার বিষয়ে চীন অলিরেডি ক্লোজ করে দিয়েছে। তারপরও ওখান থেকে কেউ আসলে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এরইমধ্যে যে ৩১২ জনকে দেশে আনা হয়েছে তাদের সবাইকে হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তারা অনেকেই বুঝতে পারেনি তাদের সেখানে রাখা হবে, তারা ভেবেছিল তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছেড়ে দেওয়া হবে। এখানে যারা এসেছেন বেশিরভাগই ছাত্র, সেখানে রাখায় তারা জানতে চেয়েছিল কেন তাদের আটকে রাখা হয়েছে। তাদের যখন বুঝিয়ে বলা হয়েছে এটা খুব রিস্কি, ঝুঁকি রয়েছে, পরে তারা শান্ত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকে প্রফেসর আব্দুল্লাহ ছিলেন। তিনি যেটা বললেন এর আগে যে ভাইরাসগুলো ছিল তা এতো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না এবং এতো কুইকলি স্প্রেড (বিস্তার) ছিল না। কিন্তু এটা কুইকলি স্প্রেড হয়, তবে ডেথ রেট (মৃত্যু সংখ্যা) কমপারেটিভলি কম অন্যান্য ভয়ানক ভাইরাসের তুলনায়। যাদের আনা হয়েছে তাদের মধ্যে ৮ জনের জ্বর ছিল, তাদের সিএমএইচ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাদের রক্তে কোনো ভাইরাস আসেনি। তারপরও তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছে।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আরও ১৭১ জনের টিম সেখানে রয়েছে, তারা আসতে চাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের প্লেন পাঠালে সমস্যা হচ্ছে। কারণ সেখানে পাইলটদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অলরেডি সিঙ্গাপুর না করে দিয়েছে তারা (পাইলটরা) এখানে আসতে পারবে না। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে- চাইনিজ কোনো চার্টার্ড প্লেন আনা গেলে সেটিকে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যান্য জায়গা থেকে যারা এসেছে তাদের ডব্লিউএইচও’র ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে চেকআপ করা হচ্ছে। তবে ভায়া যেগুলো আসে সেগুলো তো একটা সেফটি হয়ে আসে। হংকংয়ে খুবই স্ট্রিকট, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুরে একটা ন্যাচারাল অ্যাফেক্ট হয়, যে একবার হয়ে গেলে হয়েই যায়। তারপরও আমাদের এখানে ডাবল চেকিং হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, চীনের উবেই প্রদেশের উহান থেকে নতুন করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। করোনার প্রাদুর্ভাবে গত মাসের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসে ৩৬০ জনের বেশি মারা যায়। এছাড়া ১৭ হাজারেরও অধিক আক্রান্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চীন বাদেও বিশ্বের ২৪টি রাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তে রোগী পাওয়া গেছে।

Comments are closed.