ট্রাম্পের করোনা নির্দেশনা ফলো করে এক ব্যক্তির মৃত্যু

3

অনলাইন ডেস্ক:কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টায় ক্লোরোকুইন ফসফেট খেয়ে মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি। তার স্ত্রীর অবস্থাও সঙ্কটজনক। তারা গত সপ্তাহে সে দেশের প্রেসিডেন্টের দেয়া ঘোষণা ফলো করেই এই রাসায়নিক খেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মৃতের স্ত্রী।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গবেষকদের জোর গলায় বলেছেন, এই ভাইরাসের চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন সম্ভাব্য ওষুধ হিসাবে কাজ করতে পারে। তিনি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ওষুধ হিসাবে এই রাসায়নিক উপাদানটির ট্রায়ালের জন্য ইতোমধ্যেই বড় ধরনের গবেষণা কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু আরিজোনার ফিনিক্স শহরের ওই দম্পতি যেটি খেয়েছিলেন সেটি পোষা মাছের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক। সেটি খাবার অল্পক্ষণ পরেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে ওই রাজ্যের হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়। দুজনেরই বয়স ৬০এর ওপর।

মৃতের স্ত্রী এনবিসি সংবাদ চ্যানেলে বলেন সম্প্রতি তিনি টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে করোনার চিকিৎসায় ক্লোরোকুইনের সম্ভাব্য কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছিলেন।আমেরিকায় কোনও ওষুধ বাজারে ছাড়ার লাইসেন্স দেয় যে সংস্থা, ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), তারা ম্যালেরিয়া, লুপাস এবং রিউমাটয়েড বাতের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা এখনও পরীক্ষায় প্রমাণিত না হওয়ায় কোভিড-১৯এর চিকিৎসার জন্য এ ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন তারা দেয়নি।

ওই নারী বলেন, ‘আমরা ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন টিভিতে দেখেছি। অনেকবার সেটা টিভিতে দেখিয়েছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন এই ভাইরাসের বলতে গেলে একমাত্র নিরাময় এই ওষুধেই সম্ভব।’

তিনি এনবিসি চ্যানেলকে আরও বলেন, ‘এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারি বলে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম।’

আমেরিকায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন মোট ১৩শ।

ফিনিক্সের ওই দম্পতি বলেছেন তাদের পোষা কই মাছের চিকিৎসায় আগে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করেছিলেন। প্যাকেটে কিছুটা ওষুধ বাকি থেকে গিয়েছিল। সেটাই স্বামী-স্ত্রী মিলে পানিতে মিশিয়ে সেবন করেন এবং ২০ মিনিটের মধ্যে দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওই নারী বমি করতে শুরু করেন। আর তার স্বামীর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা শুরু হয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান তার স্বামী। আর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন ওই নারী।

প্রসঙ্গত, পানির ট্যাংকে মাছেদের জন্য যে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয় তা রাসায়নিক উপাদানের দিক দিয়ে ম্যালেরিয়ার জন্য ব্যবহৃত ক্লোরোকুইনের থেকে কিছুটা আলাদা।

এদিকে এই ঘটনার পর এক বিবৃতি জারি করে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে আরিজোনার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সেখানে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ ঠেকানোর বা চিকিৎসার জন্য কেউ যেন ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন ব্যবহার না করেন।

অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বড় গলায় বলেছিলেন কোভিড ১৯ এর চিকিৎসায় ক্লোরোকুইনের বিরাট সম্ভাবনা আছে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Comments are closed.