যেন দেখার কেউ নেই ইসলামপুরে চলছে ৩জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা

24

নারায়ন মোদক: ইসলামপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তার সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মোট ৩৩ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র ৮জন কাগজে কলমে। তার মধ্যে ৫ জনই প্রেষণে অন্যত্র বদলী রয়েছে। মাত্র ৩জন ডাক্তার দিয়ে চলছে এ উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। এতে করে নদী ভাঙন বন্যা কবলিত দরিদ্রতম এ উপজেলার মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত এই অঞ্চল পৌরসভা সহ ১২টি ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ। এসব মানুষ এই হাসপাতালের চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল ।

উপজেলা হাসপাতাল সূত্র জানাযায় হাসপাতালটিতে মোট ৩৩ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ এন্ড এফপি) ডাঃ একেএম শহীদুর রহমান তিনি গত ১৮নভেম্বর/১৯ইং তারিখে অবসরে চলে গেলে সে পদ শূন্যে হয়ে যায়। এছাড়া আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) পদে দীর্ঘ দিন যাবত শূন্যে রয়েছে। তা’ছাড়া জুনিয়র কনসালন্টে মোট ১০জন,এমও পদে ৪ জন, সহকারি সার্জন পদে ২জন,আইএমও ১জন,ইএমও ১জন,প্যাথলজিষ্ট ১জন,এ্যানেসথেটিষ্ট ১জন, ডেন্টাল সার্জন ১জন,এমও(ইউ/আয়ু/হোমিও) ১জনসহ মোট ২৫জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। তার মধ্যে ৮ জন ডাক্তার কাগজে কলমে থাকলেও ৫জন ডাক্তার প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন। ফলে মাত্র ৩জন চিকিৎসক দিয়ে খুড়িয়ে খঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত ডাক্তারদের মধ্যে এমও ডাঃ আবু সালেহ মহি উদ্দিন তিনি গত ০৩/১২/২০১৬ইং তারিখে থেকে প্রেষণে বদলী নিয়ে ঢাকা মুগদা হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। সহকারি সার্জন ডাঃ আরিফল ইসলাম তিনি ২২/০২/১৫ইং তারিখে প্রেষণে বদলী হয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপালে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া সহকারি সার্জন ডাঃ তাহমিনা আয়শা ও সহকারি সার্জন ডাঃ মাসুম বিন নুর এই দুইজন প্রেষণে আইএইচটি ইসলামপুরে কর্মরত রয়েছে। এসব সুযোগ সন্ধানী চিকিৎসক কর্তৃপক্ষকে ম্যনেজ করে দীর্ঘ দিন যাবত প্রেষণে বদলী হয়ে বছরের পর বছর প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগি দেখে নিজেদের আখের ঘোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অথচ মাস গেলেই তারা প্রতি মাসের বেতন নিচ্ছেন ইসলামপুর হাসপাতাল ফান্ড থেকে। ফলে ইসলামপুর হাসপাতালে নেই কোন ইউএইচ এন্ড এফপি,নেই কোন আরএমও মাত্র ৩জন ডাক্তার দিয়ে চলছে এই উপজেলার চিকিৎসা সেবা।
অপর দিকে হাসপাতালে ২টি এ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও একটি দীর্ঘদিন যাবৎ অকেঁজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এনেত্থেসিয়া ও সার্জারী বিভাগে ডাক্তার সংকটের কারণে পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারটি গত ৫ বছর যাবৎ বন্ধ রয়েছে। এতে করে একদিকে অপারেশন থিয়েটারের অধিক মুল্যবান যন্ত্রপানি নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে দরিদ্র পীড়িত অঞ্চলের রোগীরা স্বাস্থ্য সেবা থেকে দিন দিন বঞ্চিত হচ্ছেন।

এলাকার ভূক্তভোগী রোগীরা জানান, হাসপাতালালের পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটারে বিগত দিনে মা ও শিশু রক্ষায় সিজার অপারেশনসহ প্রতিদিন বিভিন্ন অপারেশন করা হতো। এতে এলাকার দরিদ্র মানুষরা উপকৃত হতো। দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন করা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অপারেশন থিয়েটার মূল্যবান যন্ত্রাংশ অব্যবহৃত হওয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালের একমাত্র মুল্যবান আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালে কর্মরত সহকারি সার্জন ডাঃ তানোয়ার ইসলাম চৌধুরী পান্না জানান, ডাক্তার সংকটে হাসপাতাল চালানো বিশাল সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে যোগাযোগ করেছি। অচিরেই এর সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন বলে জানান।

Comments are closed.