বৈরী আবোহাওয়ায় ঈদুল আযহার ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপছে পরা ভিড়

21

আবুল হোসেন রাজু, কুয়াকাটা- কলাপাড়া প্রতিনিধি॥ দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়া উ পেক্ষা করে ঈদুল আযহার ছুটিতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য পর্যটকদের ঢল। পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত সাগর কন্যা কুয়াকাটা। বর্ষা মৌসুমে সমুদ্রের রুদ্র মুর্তি উপভোগ করতে শত শত পর্যটকরা। সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে শিশুসহ নানা বয়সী পর্যটকরা। প্রথম শ্রেনীর আবাসিক হোটেল মোটেল গুলোর বেশির ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হলেও রুম সংকটে পরতে হয়নি পর্যটকদের। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের আতিথিয়েতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন করপোরেশনের মোটেলসহ প্রাইভেট আবাসিক হোটেল মোটেল মালিকরা।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করেছে জেলা পুলিশের তরফ থেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে দলে দলে বাস মাইক্রোবাস,পরিবহন ও ট্রাকে করে পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করে। মঙ্গলবার দিনভর মুসলধারে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পর্যটকদের ভীড় দেখা গেছে সৈকতে। আবহাওয়া একটু ভালো থাকায় বুধবার সকাল থেকে পর্যটকদের ভীড় বেড়ে গেছে সৈকতে।

আগত পর্যটকরা সৈকতসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। পর্যটকের ভীড়ে সৈকতে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে । সৈকতের বালিয়াড়িতে পাতা বেঞ্চ ছাতার নিচে বসে নানা বয়সের পর্যটক দম্পত্তি গল্প, গান আর আড্ডায় মেতে উঠেছে। সৈকতে পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনে রয়েছে স্পীড বোট,ওয়াটার বাইক। এসব স্পীড বোট ও ওয়াটার বাইকে সমুদ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পর্যটকবাহী ফাইবার বোটে পর্যটকরা সুন্দরবনের পুর্বাংশ ফাতরার বন,লাল কাকড়ার চরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবার ঘর ও শপিংমলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেড়েছে বেচা-কেনা। আর এসব পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্পটে ট্যুরিষ্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ,র‌্যাব ও গোয়েন্দারা টহল দিচ্ছে। অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও কঠোর নজরদারীর ব্যবস্থা রয়েছে।

ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে আসা নুরুজ্জামান মামুন দম্পত্তি জানান, ঈদের ছুটিতে সৈকতে ঘুরতে এসে খুব আনন্দ পাচ্ছেন। কখনো হালকা ও মাঝারী বৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনের শব্দে কখনো ভয় আবার কখনো শিহরন জাগায়। বৃষ্টিতে ভিজে নাচে গানে উল্লাসিত হয়ে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি। কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মিলন ভুইয়া জানান, এ বছর ঈদে প্রায় হোটেল গুলোতেই বেশির ভাগ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে অনেক পর্যটকরা ভীড় করলেও রুম সংকটে পরতে হয়নি পর্যটকদের। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র এএসপি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদুল আযহার ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিসহ মোবাইল টিম কাজ করছে। গঙ্গামতির লেক,লেম্বুরচরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব নিরাপত্তায় বাড়তি দ্বায়িত্ব পালন করছে।

Comments are closed.