রৌমারীতে পাওনা টাকা চাওয়ায় কোর্টে মামলা

2

শফিকুল ইসলাম,ব্যুরো প্রধান,রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
পাওনা টাকা চাওয়ায় কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে এক প্রতারক। ঘটনাটি ঘটেছে
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক
সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারচর গ্রামের মৃত-বছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম গত
পহেলা এপ্রিল ২০১৮ সালে উপজেলার টালুয়ারচর গ্রামের সেতাব আলীর ছেলে সামছুল হকের কাছ
থেকে তার ছেলে লুৎফর রহমানকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ বাবদ প্রতারনা
মুলক ভাবে গ্রহণ করেন। এরপর আব্দুল হাকিম লুৎফর রহমানকে বিদেশ নিতে টালবাহনা করতে থাকলে
পাওনাদার তার টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে বাঞ্ছারচর গ্রামের হাফেজ
উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলীর বাড়িতে এক শালিসী বৈঠক বসে। এতে প্রতারক আব্দুল হাকিম
গ্রাম্য মাতাব্বরের কাছে ১৫ জানুয়ারী ২০২০ সালের মধ্যে পাওনাদারের ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা
ফেরত দেওয়া হবে মর্মে ৩০০ টাকা দামের ষ্টাম্পে স্বাক্ষররিত একটি অঙ্গিকার নামা লিখে দেয়।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাওনা টাকা ফেরত দিতে না পারলে সমুদয় টাকার লভাংশসহ ৪ লাখ, ৮৭
হাজার ৫’শ টাকা ১৫ মার্চ ২০২০ সালে ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার করেন আব্দুল হাকিম।
অপর দিকে সামছুল আলমের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারক আব্দুল হাকিম শালিসীদারের
নামে আসামী করে কুড়িগ্রাম কোর্টে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটানয় অত্র
এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সামছুল আলম জানান, আমার ছেলে লুৎফর রহমানকে ফুসলিয়ে অর্থের লোভ
দেখিয়ে বিদেশ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে আমার ছেলের ভবিষ্যত চিন্তা করে বিদেশ যাওয়ার আশায়
গরু, ধান ও টাকা ধারদেনা করে আব্দুল হাকিমকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেই। এখন আমার
ছেলেকে বিদেশেও নিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। তার পরেও আমাদের কয়েকজনের নামে
কোর্টে মিথ্যা মামলা দিয়েছে ওই প্রতারক। বর্তমান আমি পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন
করছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ বিচার চাই।
ওই শালিসী বৈঠকের সভাপতি আজাহার আলী, বন্দবেড় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সামছুদ্দোহা,
মাতাম্বর রমিজ উদিন ও গাজিবর রহমান জানান, ভুক্তভোগী সামছুল হক তার ছেলের বিদেশে যাওয়ার
ব্যাপারে আব্দুল হাকিমকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়। যা ৩০০ টাকা দামের স্টাম্পে লিখিত আছে।
এ টাকা ফেরত দিতে কালক্ষেপন করতে থাকে আব্দুল হাকিম। পরে পাওনাদার সামছুল হক বিচার দাবী
করলে আমরা বেঠকে বসি এবং চলতি ১৫ মার্চ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত দেই। তারিখ অনুযায়ী
আব্দুল হাকিম টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছে বলে জেনেছি।
বিদেশ নেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের বিষয়ে স্বীকার করে প্রতারক আব্দুল হাকিম বলেন, আমি
কিছু টাকা নিয়ে ছিলাম এবং কিছু টাকা ফেরত দিয়েছি। শালিসী মাতাবম্বররা আমার কাছ
থেকে জোড় করে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উল্লেখ্য করে ৩০০ টাকার দামে ষ্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে।
এই ষ্টাম্প ফেরত চেয়ে কুড়িগ্রাম কোর্টে মামলা করেছি।

Comments are closed.