রূপগঞ্জে ‘জামাই ফারুকের’ মাদক সাম্রাজ্য

20

ডেস্ক নিউজ:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের নাকের ডগায়ই মাদক সম্রাট ফারুকের মাদক ব্যবসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুকের বাড়ি শরিয়তপুর জেলায়। সে এখানে বাড়ি করে মাদক ব্যবসা করে আসছে। বাচ্চু মিয়ার মেয়ের জামাই বলে এলাকাবাসী তাকে জামাই ফারুক বলেই চেনে। সে সবাইকে ম্যানেজ করে মাদক বিক্রি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ডিবি পুলিশকে ম্যানেজ করেই রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল, ভুলতা ইউনিয়নের কমপক্ষে ৪০টি স্পটে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য সাপ্লাই দিয়ে আসছে ফারুক।

জামাই ফারুকের সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে গোলাকান্দাইল পূর্বপারা এলাকার বাবুল, সহিতন, বাবু, দুলাল, ফারুক, হারুন, মাসুদ, উজ্জলসহ অনেকে। মাদক সম্রাট ফারুকের জমজমাট মাদক ব্যবসার কারণে রূপগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা।

এলাকায় মাদক বিক্রি হওয়াটা এখন স্বাভাবিক বলে মনে করে অনেকেই। এ ব্যাপারে কোনো রাখঢাকও নেই। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তাঘাটে পাড়া মহল্লায় মাদক ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করছে এমন অভিযোগ করেন অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কমপক্ষে ৪০টি স্পটে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবার বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ডিবি পুলিশের সাথে নাকি মাসিক চুক্তি করে জামাই ফারুকের সাহায্যে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। এই চক্রের মাদক ব্যবসার শেল্টারদাতা নাকি অনেক প্রভাবশালী নেতারা। এদের মধ্যে বিরোধী ও সরকার দলীয় নেতাদের নামও বলছেন অনেকে।

এ সকল প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চক্রটি নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি করে থাকেন। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার উঠতি বয়সি তরুণদের সঙ্গে কিছু সংখ্যক তরুণীও নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ইদানিং মাদকাসক্ত পরিস্থিতিটা উপজেলার গোলাকান্দাইলে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলে সয়লাব হলেও এগুলো দেখার কেউ নেই। যারা বন্ধ বা প্রতিরোধ করবে তারাই এ ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত হয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। এ মরণনেশা মাদকে দিন দিন এলাকার তরুণরা আসক্ত হচ্ছে।

তারা জানান, মাদক সেবনকারীদের উৎপাতে এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ইদানিং কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। বরং দিন দিন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিনিয়ত যুবক ও তরুণরা যোগ দিচ্ছে মাদক সেবনের সাথে ব্যবসায়ও।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, আগের তুলনায় মাদকের প্রভাব অনেকটা দমন হয়েছে। মাদক বিক্রি বন্ধে আমরা সবাই চেষ্টা চালাচ্ছি।

সুত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

Comments are closed.