সিদ্ধিরগঞ্জে তিন খুনের হত্যাকারী গ্রেফতার

3

মো. ওয়ারদে রহমান: স্ত্রীর উপর অভিমান করে শ্যালিকা ও তার দুই শিশুকন্যাকে গলাকেটে হত্যাকারী ঘাতক আব্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আব্বাস। একটি চাকু দিয়েই সে তিনজনকে খুন করে।
এর আগে দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, মা ও দুই কন্যাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পরে নিজের প্রতিবন্ধি কন্যাকেও কুপিয়ে জখম করে পাষন্ড ওই ঘাতক আব্বাস।

পুলিশ সুপার জানান, ঘাতক আব্বাসের সাথে স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে তার স্ত্রী শ্যালিকা নাজনীনের সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার বাড়িতে চলে আসে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আব্বাসও ওই বাড়িতে আসে। এক পর্যায়ে শ্যালিকার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে উত্তেজিত হয়ে আব্বাস তার শ্যালিকা নাজনীন (২৮), নাজনীনের দুই শিশু কন্যা নুসরাত (৮), খাদিজাকে (২) কুপিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। এসময় তাদের রক্ষায় আব্বাসের প্রতিবন্ধি কন্যা সুমাইয়া (১৫) এগিয়ে এলে তাকেও কোপায় ঘাতক। কিন্তু আব্বাসের স্ত্রী সকালে গার্মেন্টেসে চলে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পায়।
নিহত নাজনীন সিআইখোলা এলাকার বাসিন্দা সুমনের স্ত্রী। সুমন সানারপাড় জোনাকি পেট্রোল পাম্পে চাকুরি করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘাতক আব্বাসকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। যে কোন সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে। তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে বিষয়টি পুরোপুরি পারিবারিক। তবে আব্বাসকে গ্রেফতার করতে পারলে ঘটনার আদ্যপান্ত জানা যাবে।

এর আগে সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার ৭ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার ওই ফ্ল্যাট থেকে মা ও দুই কন্যা শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুণ অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। পরে পুলিশ সুপার হত্যাকারীকে পাকড়াও করে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হন।

Comments are closed.