ডামুড্যায় দুই প্রকৌশলীর ওপর হামলা: ছাত্রলীগ সভাপতি সহ তিনজনের নামে মামলা

4

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও আবদুল মালেককে মারধরের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, তাঁর ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও স্থানীয় পূর্ব মাদারীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, তাঁর ভাই জুলহাস মাদবর ও এনামুল হক ইমরান ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এনামুল হক ইমরান সম্প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প থেকে ১০টি সেলাই মেশিন সরবরাহ করার কাজ নেন। ৯২ হাজার টাকার ওই প্রকল্পটির বিল উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডামুড্যা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে তাঁর বাকবিতান্ড হয়।

এ ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, তাঁর ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও স্থানীয় পূর্ব মাদারীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরান প্রকৌশলীদের কক্ষে যান। সেখানে তাঁরা বিলের চেকে সাক্ষর করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। মেশিন সরবরাহ ও বিতরণের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র না থাকায় প্রকৌশলীরা বিলের চেকে সাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই তিন নেতা উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও আবদুল মালেককে মারধর করেন। তাঁরা উপজেলা প্রকৌশলী এস.এম ইবনে মিজান হাসানকে মারধরের চেষ্টা করে। তখন তিনি কক্ষের দরজা বন্ধ করে মারধর থেকে রক্ষা পান।
এ ব্যাপারে মারধরের শিকার উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, ‘এডিপি প্রকল্পের একটি বিলের চেকে সই করা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বিলের কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। তখনই তারা আমাদের ওপর হামলা করে।
অভিযোগের বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান ছোট একটি কাজ করেছে। ওই কাজের বিলটি দিচ্ছিল না। ১০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল। বিষয়টি জানতে গিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে আমরা কাউকে মারধর করিনি।’

ডামুড্যা থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের নেতাদের দুজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করার খবর শুনেছি। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.