রৌমারীতে এসিল্যান্ড না থাকায় হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ

0

শফিকুল ইসলাম, ব্যুরো প্রধান রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
দীর্ঘ দিন ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় চরম ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাাধারণ মানুষ । কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারসহ ১৫টি পদ শুন্য থাকায় অফিসের দাপ্তরিক কর্মকান্ডসহ সকল প্রকার কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনগনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শঙ্কর কুমার বিশ্বাস গত ২৩ নভেম্বর ২০১৪সালে রৌমারীতে যোগদান করেন। ২৮ এপ্রিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভূমি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অপর দিকে জুলাই মাসে রৌমারী উপজেলার নির্বাহী অফিসারের পদ শুন্য হলে শঙ্কর কুমার বিশ্বাস পদন্নতি পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন। অদ্যবধি ভূমি অফিসের মত গুরুত্বপুর্ণ এই পদটি শুন্য হয়ে যায়। ফলে ভূমি অফিসের খাজনা, খারিজ,জলমহল,উপজেলার ১৭টি হাট-বাজারের দোকান পাটের নবায়ন, অবৈধ দোকানদারের দখলদার বৈধতা করন সংক্রান্তসহ জমির রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত জটিলতার মিস কেসগুলো পরিচালনায় বিঘœ ঘটছে। এ ছাড়াও অফিসের ভূমি সেবা সপ্তাহ, ভূমি উন্নয়ন কর মেলাসহ গুরুত্বপূর্ণ দিবস গুলো পালন করা হচ্ছে না। এ উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার বিহিন রাস্তাঘাট, ব্রীজ/কালভার্ট, বিভিন্ন ভবনের কাজসহ উন্নয়নের কাজগুলি ব্যাহত হচ্ছে।

এছাড়াও পদ শুন্য রয়েছে উপজেলা মৎস্য অফিসার, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার (বিআরডিবি),উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার,উপজেলা সহকারী অফিসার, উপজেলা সহকারী ইঞ্জিনিয়ার, নক্সাকার উপসহকারী প্রকৌশলী, সার্ভেয়ার ও ওয়ার্ক এসিসটেন্ড।

ভুক্তভোগী উপজেলার টাপুরচর গ্রামের আব্দুর রশিদ, মুকুল মিয়া, চান্দারচর গ্রামের কাজুমুদ্দিন, নওদাপাড়া গ্রামের শাহজামালসহ অনেকে বলেন, ভূমি কমিশনার না থাকায় কয়েক মাস থেকে জমি খারিজ করতে পারছিনা। মাসে মাসে ভূমি অফিসে এসে ফেরত যেতে হচ্ছে। এত আমাদের সংসারের কাজের ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। অতি দ্রæত রৌমারীতে ভূমি কমিশনার আসলে আমাদের আর হয়রানি হতে হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, রৌমারী ভূমি অফিসে উলিপুর এসিল্যান্ডকে এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি তাকে প্রতি সপ্তাহে একদিন আসার জন্য বলেছি, কিন্তুু উলিপুর বড় উপজেলা সেখানে কাজ করে শেষ করা যায় না । তার পক্ষে প্রতি সপ্তাহে রৌমারীতে আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। ভূমি অফিসের এসিল্যান্ড ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের মত গুরুত্বপুর্ণ পদ শুন্য থাকায় ভূমি অফিসের সকল কাজের বিঘœ ঘটছে,
এ বিষয়ে রৌমারীতে একজন এসিল্যান্ড ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শুন্য পদসহ অন্যান্য পদের শুন্যতা লাঘবের জন্য জেলা প্রশাসককেও অনুরোধ জানিয়েছি।

Comments are closed.