রৌমারীর চরাঞ্চলে এক জমিতে ৬ ফসলের চাষ

12

শফিকুল ইসলাম:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলে এক জমিতে ৬ ফসলের চাষ করা হয়েছে। বাম্পার ফসল দেখে কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটেছে।
চরাঞ্চলের কৃষকের একমাত্র ভরসা হচ্ছে রবি ফসলের চাষ। সেই সঙ্গে এক সাথে কয়েকটি ফসলের চাষ করে ব্যাপক সারা জাগিয়েছে চরাঞ্চলের কৃষককে। খড়া, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকুলতার সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষাবাদ করে এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতি বছর বন্যার ভয়াবহতায় পাহাড়ী ঢল ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের ফলে বালি ও পলি মাটি মিশ্রিত হয়ে জমিতে মিসিয়ে চরাঞ্চলের ভুমির উর্বতা বেড়েছে যায়। তাই জমির প্রকারভেদে এখানে ফসল চাষে পার্থক্য দেখা যায়।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে জমিতে একই সঙ্গে ৬ প্রকার ফসল চাষে সাফল্য অর্জন করছে কৃষকরা। সমতল ভুমিতে ইরি বোরো চাষ করা হলেও অসমতল ও বালি মাটিতে চাষ করা হচ্ছে নানা জাতীয় রবিশষ্য।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ফলুয়ারচর, বাঘমারা, চরবাঘমারা, বলদমারা, বাইশপাড়া, বড়চর, খেরুয়ারচর, চরপাখিঊড়া, কুটিরচরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল এলাকার প্রায় ২’শ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে নানা জাতীয় ফসল।
চর পাখিউড়া গ্রামের শরিফ উদ্দিন, জিলকদ ও হাসান আলী জানান, আমাদের চরাঞ্চলের ভুমিগুলি অসমতল ও বালির পরিমান বেশী হওয়ায় ইরি বোরোর পরিবর্তে একই জমিতে একই সঙ্গে ৬ প্রকারের রবি ফসল চাষে কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। ওই জমিতে পাট, কলমিশাক, লাল শাক, মাসকলাই, মরিচ ফসলের চাষ করেন। এসব সবজি বোপনের ১৫/২০ দিন পর সারিবদ্ধ ভাবে বাদাম, ঢেরোস, আখ চাষ করা হয়। ১ মাসের মধ্যে এসব ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এবার রৌমারীতে রবি ফসলের চাষ হয়েছে প্রায় ২’শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চরাঞ্চল এলাকায় একই জমিতে ৬/৭ প্রকারের ফসল ফলাচ্ছে কৃষকরা। এ ফসল রোপনের ক্ষেত্রে আমরাও কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি এবং আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

Comments are closed.