মেলান্দহে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ ৫০পরিবার গৃহবন্দি

124

রোকনুজ্জামান সবুজ, জামালপুর:
মেলান্দহের বীর হাতিজা গ্রামের একটি নন-এমপিও ভুক্ত পরিত্যাক্ত মাদ্রাসার অপরিকল্পিত সীমানা প্রাচীরে বীর মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলীসহ ৫০টি পরিবারের দুই শতাধিক নারী- পুরুষ প্রায় তিন মাস ধরে নিজ বাড়ীতেই একপ্রকার গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক ওইসব গৃহবন্দিদের যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ১সেপ্টেম্বর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত নির্দেশ প্রদান করেছেন। অথচ মেলান্দহের ইউএনও সেখানে না যাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলীসহ ৫০টি পরিবার আজও গৃহবন্দি রয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের বীর হাতিজা গ্রামে নন-এমপিও ভুক্ত একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এটির নাম বীর হাতিজা হযরত শাহ কামাল (রহ:) দাখিল মাদ্রাসা। বীর হাতিজা গ্রামের পরিত্যক্ত একটি ভবন হযরত শাহ কামাল (রহ:) দাখিল মাদ্রাসা নামেই এলাকায় পরিচিত। ওই ভবনের সামনে পুরো মাঠটি ঘাস ফসল ও জঙ্গলে ভরা। এ মাদ্রাসাটিতে কখনোই কোন প্রকার ছাত্র-ছাত্রীর যাতায়াত করেনা। কাগজে কলমে এই মাদ্রাসায় ১৫ জন শিক্ষক এবং ৩ জন কর্মচারী থাকলেও তাদের কেউ কখনো এই মাদ্রাসায় আসেন না। মাদ্রাসাটির পরিত্যক্ত ভবনের চারটি শ্রেণি কক্ষই ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। এই মাদ্রাসায় কখনো ক্লাশ হয়না এবং ছয়মাসে একদিনও মাদ্রাসার অফিস কক্ষ খোলা হয়না।

মেলান্দহের বীর হাতিজা গ্রামের ভুক্তভোগী ময়দান আলী, আব্দুল কুদ্দুস, আক্তার হোসেন, মিস্টার আলী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সহ স্থানীয়রা অভিযোগে জানান, সম্প্রতি সরকারী টাকায় ছাত্র ও শিক্ষক বিহীন কথিত বীর হাতিজা হযরত শাহ কামাল(রহ:) দাখিল মাদ্রাসাটির সীমামা প্রাচীর নির্মিত হচ্ছে। অত্যান্ত অপরিকল্পিত ভাবে ওই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কারণে মাদ্রাসাটির পাশের এলাকায় অবস্থানকারী বীর হাতিজা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলীসহ ৫০টি পরিবারের দুই শতাধিক নারী- পুরুষ নিজ বাড়ীতেই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। তারা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পূর্ব থেকেই মাদ্রাসার দক্ষিণ ও উত্তর পাশের খোলা মাঠ দিয়ে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি ওই মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম চান এর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্থাানীয়দের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে মাদ্রাসার সীমামা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। ওই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলীসহ ভুক্তভোগীরা মাদ্রাসা সীমানার পাশ দিয়ে ছোট্ট একটি রাস্তার দাবী করলেও তারা তা আমলে নেননি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলী বলেন, “পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ত্যাগ করে জোয়ান বয়সে দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। স্বপ্ন ছিল যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে মাথা উঁচু করে চলবো। অথচ মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি অন্যায় ভাবে পরিত্যক্ত একটি মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীরে আমার বাড়ীসহ স্থানীয় ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে একটি পরিত্যক্ত মাদ্রাসার অপরিকল্পিত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের গ্যারাকলে আমি এখন নিজ বাড়ীতেই গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি।”

মুক্তিযোদ্ধা অফেদ আলীর পুত্র ময়দান আলী জানান, “তারা নিজ বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য ৬ফুট প্রশস্তের মাত্র ১০০মিটার দীর্ঘ একটি রাস্তার দাবীতে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জামালপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এব্যাপারে জামালপুরের জেলা প্রশাসক গত ১সেপ্টেম্বর মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করেছেন। অথচ আজও তাদের ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ রয়েছে।”

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম চান জানান, মাদ্রাসা কমিটির সিদ্ধান্তে সরকারী অনুদানে মাদ্রাসাটির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। মাদ্রাসার দক্ষিণ সীমানা দিয়ে এলাকাবাসীর যাতায়াতের জন্য শিঘ্রই একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম আল ইয়ামিন জানান, জামালপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মতে একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫০ পরিবারের গৃহবন্দি থাকার বিষয়টি শিঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। ওই মাদ্রাসার মাঠ দিয়ে যারা পূর্ব থেকেই চলাফেরা করেছেন তাদের জন্য মাদ্রাসার সীমানার পাশ দিয়ে শিঘ্রই একটি রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments are closed.