জামালপুর ইসলামপুরে বন্যায় রাস্তা ভেঙেচুড়ে লন্ডভন্ড

6

ইসলামপুর প্রতিনিধি: জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান এবং তার সহোদর দুই ভাই আব্দুর রৌফ ও নুরে আলম সিদ্দিকী গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে বন্যার ¯্রােতে বসতভিটা হারিয়েছেন। একই রাতে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের তাড়তাপাড়া গ্রামের অন্তত: ৫০টি পরিবারের বসত ভিটাও বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতে ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের তাড়তাপাড়া গ্রামের একমাত্র পাকা সড়কটির বিভিন্ন স্পটে ভেঙ্গে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এখনো বন্যার পানির তীব্র ¯্রােত বইছে। ওই পাকা সড়কটির দুই পাশে অন্তত: ৫০টি পরিবারের বসতভিটা ভেঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত তাড়তাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ বাড়ীঘর ও মালামাল বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। ওই গ্রামের হারগিলা বালিকা দাখিল মাদ্রাসাটিও বন্যার ¯্রােতে ভেঙ্গে পানিতে পড়ে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের বাড়ীঘরে ও রাস্তার ধারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে তাড়তাপাড়া গ্রামের একমাত্র সড়কটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

তাড়তাপাড়া গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে পানিতে ভেসে যাওয়ায় তারা কেউ ঘরের কোন মালামাল ও মুল্যবান কাগজপত্র রক্ষা করতে পারেন নাই। ওই সময় তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোন রকমে জীবন নিয়ে নিজ বাড়ীর কাছে রাস্তায় উঠে প্রানে বেঁচে গেছেন। অথচ আজ পর্যন্ত কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে যায়নি।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যার তীব্র ¯্রােতে তাদের তিন ভাইয়ের বসতভিটার ৬টি আধা পাকা ঘরসহ তাদের গ্রামের অন্তত: ৫০টি পরিবারের বসতভিটা সম্পুর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি এই ভয়াবহ বন্যার অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বসতভিটা পূণ:সংস্কারের জন্য প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যায় যমুনা তীরবর্র্তী নোয়ারপাড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষ আজও পানিবন্দি রয়েছে। বন্যার এই ইউনিয়নের দুই শতাধিক বাড়ীঘর সম্পুর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও বন্যার পানির ¯্রােতে তার ইউনিয়নের সকল সড়ক ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ সকল সড়কের যোগাযোগ আজও বিছিন্ন রয়েছে। বন্যার্তদের সাহায্যে সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত মাত্র ৩০ মেট্রিক টন চাল তিন দফায় বিতরণ করা হয়েছে যাহা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা দুর্গত দিনমজুর ও নি¤œ আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে।

Comments are closed.