জামালপুরে যমুনার পানি অতিতের সব রেকর্ড ভাঙ্গিয়ে বিপদসীমার ১৪০ সে.মি. উপরে

32

ফারুক মিয়া,স্টাফ রিপোর্টার : যমুনার পানি অতিতের রেকর্ড ভঙ্গ করে যমুনার পানি স্তর বিপদসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । ২০১৭ সালে ১৩৪ সেন্টিমিটার পানির রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকার পানি বিপদসীমার ১৪০ সেন্টিমিটারে ওপরে অবস্থান করছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক পাঠক আব্দুল মান্নান । তিনি মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এ তথ্য  নিশ্চিত করেছেন ।

এর আগে ২০১৭ সালে এ পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার এবং ১৯৮৮ সালে ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বাসভবন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়,কৃষি অফিসারের কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়সহ সব দাফতরিক কার্যালয় এখন পানির নিচে।

এরইমধ্যে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি উঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠায় ঝুঁকি নিয়ে রেল চলছে। যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে রেল যোগাযোগও।

অপর দিকে বন্যায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইসলামপুর উপজেলা পৌর এলাকাসহ নয়টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে বলে ইউপি’র চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বন্যায় ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-গুঠাইল, ইসলামপুর-কুলকান্দি ও ইসলামপুর-মোরাদাবাদ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে ইসলামপুরের ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে রয়েছে। সোমবার দুপুরে শশারিয়াবাড়ি এলাকার যমুনার বাম তীর বাঁধ ভেঙ্গে পাথর্শী’র পুরো ইউনিয়নের মানুষ পানি বন্দি হয়েছে।

উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা, গিলাবাড়ী, সাপধরী ইউনিয়নের আকন্দ পাড়া, পশ্চিম চেঙ্গানিয়া, পূর্ব চেঙ্গানিয়া, ওকাশাড়ীডোবার, কুলকান্দি ইউনিয়নের বেরকুসা, টিনেরচর, সেন্দুরতলী, মিয়াপাড়া, বেলাগাছা ইউনিয়নের কাছিমারচর, দেলীপাড়, গুঠাইল, পাথর্শী ইউনিয়নের শশারিয়াবাড়ী, মোরাদাবাদ, মুকশিমলা, হাড়িয়াবাড়ী পশ্চিম মুজাআটা, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ওলিয়া, রামভদ্রা, কাজলা, পলবান্ধা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাদুরপুর,মরাকান্দি,সিরাজাবাদ,চরবাটিকামারী’র অঞ্চলগুলোর বিস্তীর্ণ জনপদের বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

গত চারদিনে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে চিনাডুলী ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়া,ডেবরাইপ্যাচ, বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ার চর, বরুল, নোয়ার পাড়ার বৌশেরগড়সহ প্রায় দুইধিক বসতভিটা ভেঙে গেছে। তিগ্ররা আশপাশের উঁচুজায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসব মানুষরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে গৃহপালিত হাঁস-মুরগী ও গবাদি পশু নিয়ে বিভিন্ন সড়কে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে। এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী যমুনা থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে ইসলামপুরের সাপধরী, চিনাডুলি, বেলগাছা, কুলকান্দি, নোয়ারপাড়া, পাথর্শী ,ইসলামপুর সদর ও পলবান্ধা ইউনিয়নগুলোর লাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।

Comments are closed.